যুক্তরাজ্যের আটককেন্দ্রে রাখা অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ হয়েছে—এমনই কঠোর মন্তব্য করেছে ব্রিটেনের হাই কোর্ট। এক বাংলাদেশি ও এক মিসরীয় অভিবাসীর করা মামলার রায়ে আদালত বলেছে, এই ব্যর্থতা শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলমান একটি কাঠামোগত সমস্যা।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটসের ধারা-৩ অনুযায়ী আটক অবস্থায় কাউকে অমানবিক বা অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখে ফেলা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই সুরক্ষা দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তর আইন ভঙ্গ করেছে। বিচারক জেফার্ড মন্তব্য করেন, সরকার অভিবাসীদের মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যা বেআইনি।
মামলার বাদী ওই দুই অভিবাসী ২০২৩ ও ২০২৪ সালে গ্রেপ্তারের পর ব্রুক হাউস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং আত্মহত্যা প্রবণতার ঝুঁকি তৈরি হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন প্রক্রিয়া—অ্যাসেসমেন্ট কেয়ার ইন ডিটেনশন অ্যান্ড টিমওয়ার্ক (এসিডিটি)—এও সেই ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধারা-৩৫ অনুসারে চিকিৎসকের প্রতিবেদন তৈরি করে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে হয়। কিন্তু আদালত দেখতে পায়, বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
বিচারক রায়ে বলেন, ২০১৭ সালেই ব্রুক হাউস নিয়ে গুরুতর অনিয়মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছিল। তারপরও পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। আত্মহত্যা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে ধারা-৩৫-এর প্রতিবেদন আশঙ্কাজনকভাবে কম—এর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দিতে পারেনি সরকার।
রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মামলার বাদীরা। তাদের আইনজীবী লিওস কেট বলেন, “এই রায় অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
অন্যদিকে, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে—আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তারা মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে নজরদারি ও পর্যালোচনা জোরদার করা হবে।