ভারত মহাসাগরে চীন থেকে ইরানের উদ্দেশে যাত্রারত একটি জাহাজে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অভিযানে যুক্ত ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল অপারেশন ফোর্স। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, জাহাজটিতে প্রচলিত সমরাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বহন করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেই চালান শনাক্ত করে তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব উপকরণ ইরানে পৌঁছালে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতে পারত।

অভিযান চলাকালে স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্যরা বেশ কয়েক ঘণ্টা জাহাজটিতে অবস্থান করেন। চালান ধ্বংসের পর জাহাজটির নাবিকদের পুনরায় যাত্রা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে জাহাজটি শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে মার্কিন সেনারা সেটি ত্যাগ করে নিজেদের যুদ্ধজাহাজে ফিরে যান।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কৌশলগত পদক্ষেপগুলোর অংশ, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক বিস্তার ঠেকানো। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক অস্ত্র পরিবহন নজরদারিতে রাখাকে ওয়াশিংটন অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় হওয়ায় এর আইনগত দিক নিয়েও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রতিক্রিয়া জানার জন্য চীন ও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানের খবর প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ইরান সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।