অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় একদিনে অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলা রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর আগের রাতেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বোমা বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে রাতের মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে প্রাথমিক হিসাবে ২৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হলেও পরবর্তী হামলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে রাফাহ এলাকায় হামাসের আটজন যোদ্ধা অস্ত্রসহ একটি সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার হামাস ও ইসলামিক জিহাদের লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা জানায়।
তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার বড় একটি অংশে বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজা সিটির শেখ রেদওয়ান এলাকায় শনিবার সকালে গাজার পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার পর নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশ সদরদপ্তরে চালানো হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক ও বন্দিরাও রয়েছেন।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুইজন মেজর এবং দুইজন লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বাকি নিহতরা বেসামরিক মানুষ বলে জানানো হয়েছে।
নতুন করে হামলা শুরুর পর গাজাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দলগুলো। আহত ও নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।