রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি সংলাপ শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যালেক্সেই পোলিশচুক জানিয়েছেন, তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনার জন্য রুশ প্রতিনিধিদল প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইউক্রেনের অনীহার কারণেই আলোচনাটি বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রুশ বার্তাসংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোলিশচুক বলেন, শান্তি সংলাপ বর্তমানে ইউক্রেনের পক্ষের অনিচ্ছার কারণে বন্ধ রয়েছে। তুরস্ক একাধিকবার আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত এখন বল ইউক্রেনের কোর্টে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর আগে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের দখল ও ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো বেলারুশে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়, যা এক সপ্তাহ পরই ভেঙে যায়।

পরে ২০২৩ সালে তুরস্কের আঙ্কারায় এবং পরবর্তী বছর ইস্তাম্বুলে আরও দুটি দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে মতবিরোধের কারণে কোনো পর্যায়েই তা ফলপ্রসূ হয়নি। সর্বশেষ মে মাসে শুরু হওয়া ইস্তাম্বুল সংলাপও গত ২৩ জুলাই থেকে স্থবির হয়ে আছে।

তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছিলেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বৈঠকের স্থান হিসেবে মস্কো প্রস্তাব করা হলে ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকেই আলোচনার অগ্রগতি থেমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘায়ন উভয় দেশকেই অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের ভূমিকা নতুন করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।