চীনের গুইঝো প্রদেশে মৃতদেহ কবর দেওয়ার বদলে দাহ করার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ নীতির কারণে সোমবার ও মঙ্গলবার শিদং শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, স্থানীয় প্রশাসন গত সপ্তাহে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২০০৩ সালের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মরদেহ কবরের পরিবর্তে দাহ করা হবে যাতে ক্রমবর্ধমান কবরস্থানের জায়গার সংকট মোকাবিলা করা যায়। নির্দেশনাটি প্রকাশের পরই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ প্রকাশ করেছে ‘বিগ ক্যাট’। সেখানে গুইঝোর শিদং শহরের বাসিন্দাদেরকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায় “কমিউনিস্ট পার্টি যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর উচ্ছেদ করতে চায়, তাহলে আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্বপুরুষদের কবর খুঁড়ে দেখুক!”
এই স্লোগান এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।

গুইঝো প্রদেশে মিয়াও জাতিগোষ্ঠীর বসবাস দীর্ঘদিনের। তাদের রীতি অনুযায়ী মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে কবর দেওয়াই মূল ধর্মীয় প্রথা। ফলে নতুন সিদ্ধান্তকে তারা সরাসরি নিজেদের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য, জায়গা সংকট এখন বড় সমস্যা। তাই কবরের বদলে দাহ বা সমুদ্রসমাহিতকরণের মতো বিকল্প উপায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, দাহ করলে মৃতদেহের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না, ফলে ভূমির সাশ্রয় সম্ভব।

তবে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ এটি শুধু অনুরোধ নয়, প্রশাসন চাপ প্রয়োগও করছে। শিফেং কাউন্টির এক বাসিন্দা জানান, গত বছর তার দাদাকে কবর না দিয়ে দাহ করতে বাধ্য করা হয়। “প্রশাসনের লোকজন বলেছিল, আইন না মানলে আমাদের তিন প্রজন্মকে নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে,” বলেন তিনি।

গুইঝো চীনের তুলনামূলক দরিদ্র অঞ্চলের একটি। সাংহাই বা শেনজেনের মতো আধুনিক অবকাঠামো এখানে নেই। তাই স্থানীয় জনগণ মনে করছেন, শহরাঞ্চলের সংকটের অজুহাতে গ্রামীণ সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।

সরকারের ব্যাখ্যা ও জনগণের ক্ষোভের মাঝে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।