যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে মোট ৩২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মানববিহীন বিমান (ইউএভি/ড্রোন) উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য একটি ক্রয় নেটওয়ার্কে জড়িত ছিল। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, চীন, হংকং, ভারত, জার্মানি ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, এই নেটওয়ার্ক তেহরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছিল।
যদিও ওয়াশিংটনের এই অভিযোগের জবাবে ইরান বহুবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক তদারকির অধীনে শান্তিপূর্ণ প্রকৃতির। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সত্ত্বেও তেহরান তাদের আত্মরক্ষার অধিকারের উপর জোর দিয়ে চলেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগের দিন, বুধবার, ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির স্থপতি হাসান তেহরানি মোকাদ্দামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮০-এর দশকে যখন ইরানের ওপর পশ্চিমা সমর্থিত বাহিনীর চাপ ছিল, তখন মোকাদ্দামই সীমিত বিদেশি সহায়তা নিয়ে আইআরজিসির জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রথম স্বদেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর দূরদর্শী ভূমিকার ফলেই ইরান সমরাস্ত্রে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। এই নিষেধাজ্ঞাকে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সীমিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ধারাবাহিক অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
ইএফ/