দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দার্জিলিং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ঐতিহাসিক রাগেরুং ট্রেকিং রুট। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দার্জিলিং শহরের চৌরাস্তা থেকে ‘মেলো টি ফেস্টিভ্যাল’-এর ব্যানারে একদল পর্বতারোহীর পদযাত্রার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে পথটি। এরপর থেকেই স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকরা নিয়মিত এই রুটে ট্রেকিং করতে পারবেন।

জিটিএ সূত্রে জানানো হয়, ১৯৮৬ সালের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে রাগেরুং ট্রেকিং পথটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পরের কয়েক দশকে রুটটি পুনরায় চালুর জন্য রাগেরুং হোম স্টে অর্গানাইজেশন এবং চা বাগান কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। সম্প্রতি পাহাড়ি পর্যটনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে জিটিএ যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তার অংশ হিসেবেই দার্জিলিং-রাগেরুং ট্রেকিংরুট পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

‘মেলো টি ফেস্টিভ্যাল’-এর অংশ হিসেবে জিটিএর পর্যটন বিভাগ আয়োজন করছে ‘ডি-হাইক’, যেখানে প্রায় ১২ কিলোমিটার হাঁটা পথ অতিক্রম করে চৌরাস্তা থেকে রাগেরুং পৌঁছাবেন অংশগ্রহণকারীরা। এই পথ দার্জিলিং হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

রাগেরুং হোম স্টে ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেরিং শেরপা বলেন, “আমাদের এলাকায় ২২টি হোম স্টে রয়েছে। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই আমরা এই রুট চালুর জন্য চেষ্টা করছিলাম। রাগেরুং অত্যন্ত শান্ত ও মনোরম একটি জায়গা—চৌরাস্তা থেকে ১২ কিলোমিটার পথ হাঁটলেই পৌঁছানো যায়।”

তিনি জানান, তেনজিং নোরগের জন্মবার্ষিকীতে রুটটি খোলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এবার ‘মেলো টি ফেস্ট’-এর ব্যানারে রুটটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে অন্তত ২৫০ জন পর্বতারোহী প্রথম দিনের পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন।

দার্জিলিংয়ের পর্যটনচিত্রে রাগেরুং ট্রেকিংরুটের পুনরুজ্জীবন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।