যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান চালিয়ে তিনটি শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অপারেশন আয়রন ওয়াল নামের অভিযানটি ২১ জানুয়ারি জেনিন শরণার্থী শিবিরে শুরু হয়। পরবর্তীতে তা তুলকারেম, নুর শামস এবং উত্তর পশ্চিম তীরের আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই অভিযানে তিনটি শিবিরের বাসিন্দাদের প্রায় সবকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

উচ্ছেদ হওয়া এক ব্যক্তি নাদিম এম., যিনি চার সন্তানের পিতা, জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা তাকে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে তল্লাশি চালায় এবং পরিবারসহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়। সেনারা সতর্ক করে জানান, কেউ যদি নির্দিষ্ট পথে সরার চেষ্টা করে, তবে আশপাশের স্নাইপাররা গুলি করবে।

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অভিযানের সময় ৮৫০টি ফিলিস্তিনি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বা প্রতিবন্ধীদের প্রয়োজনের দিকে “কোনও কার্যকর ব্যবস্থা” নেওয়া হয়নি। সংস্থার মতে, এটি জোরপূর্বক জনসংখ্যা স্থানান্তর এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধান অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

এইচআরডব্লিউ ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের ফেরার সুযোগ দিতে হবে এবং মানবিক সহায়তার চাহিদা পূরণ করতে হবে। এছাড়া জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক বলেছেন, তারা পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবগত এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরের উপর আগ্রাসন বেড়েছে, এতে ১ হাজার ৭৬ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১০ হাজার ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ২০,৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি অপহরণ হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ঘোষণা করেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল অবৈধ, এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সব বসতি খালি করতে হবে।