অক্টোবর ২০২৩-এর যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলজুড়ে দ্রুত বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট। স্থানীয় দৈনিক ইয়েদিয়থ আহরনোথ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই লাখ মানুষ এখন জরুরি মানসিক সেবার প্রয়োজন বোধ করছেন। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
পরিসংখ্যানের ব্যাপক হার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে হতাশা ও উদ্বেগজনিত রোগনির্ণয় ২০১৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। অক্টোবর ২০২৩-এর পর PTSD (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) রোগীর সংখ্যা মাসে ৭০ শতাংশ হারে বেড়েছে, নতুন রোগী যোগ হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ জন। মানসিক স্বাস্থ্য হটলাইনে কলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। মনোরোগ সংক্রান্ত ওষুধের ব্যবহারও দ্বিগুণ হয়েছে।
ক্লালিত হেলথ সার্ভিসেস পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭ অক্টোবরের ঘটনায় সরাসরি প্রভাবিত অর্ধেক মানুষ এখনও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। সাধারণ জনগণের প্রতি পাঁচজনের একজনের কার্যক্ষমতাও মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আটটি বড় মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, দেশটি ‘গভীর ও ব্যাপক মানসিক অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব’ এর মুখোমুখি, যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তারা দাবি করেন, ইসরায়েলি সমাজের মানসিক সুস্থতা ‘ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থায়’ নেমে এসেছে।
হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মেরাভ রথের মতে, হতাশা, উদ্বেগ, আসক্তি, দাম্পত্য সংকট ও শিশুদের আচরণগত সমস্যার হার দ্রুত বাড়ছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি চারজনের একজন আসক্তির ঝুঁকিতে রয়েছে যা ২০১৮ সালে ছিল প্রতি দশজনে একজন।
সংকট মোকাবিলায় ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি জাতীয় উদ্ধার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ১.৭ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৫১৭ মিলিয়ন ডলার)। এই পরিকল্পনায় মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা, বেতন বৃদ্ধি, মানসিক রোগীদের ওয়ার্ড উন্নয়ন এবং কমিউনিটি সেবা সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ আছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাময়িক পদক্ষেপের পরিবর্তে পুরো মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক কাঠামোর ভাঙন— সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই প্রভাব বহন করতে পারে।
ইএফ/