মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাকে চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে এই হুঁশিয়ারি দেন, ফলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ট্রাম্পের দেওয়া সতর্কবার্তায় সকল এয়ারলাইন, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী এবং মানব পাচারকারীদের ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং আশপাশের আকাশসীমাকে পুরোপুরি বন্ধ বলে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যদিও ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সম্ভাব্য হামলার চূড়ান্ত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবীয় অঞ্চলে এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জাহাজ, উভচর আক্রমণজাহাজ, একটি আক্রমণাত্মক সাবমেরিন এবং পুয়ের্তো রিকোতে মোতায়েন করা ১০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এরিক ফার্নসওয়ার্থ এই সমাবেশকে 'এই শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলাও পাল্টা ‘বৃহৎ সামরিক মোতায়েন’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
ইএফ/