মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford–কে নতুন করে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থানরত এ রণতরীকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হতে বলা হয়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কি না—এমন জল্পনা চলাকালে এই রণতরী মোতায়েনের নির্দেশ আসে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে আরেক বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln এবং এর সঙ্গে থাকা বিশাল নৌবহর। নতুন করে জেরাল্ড আর ফোর্ড যুক্ত হলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি আরও দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় শুধু পরমাণু কর্মসূচি নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়েও ছাড় দিতে হবে তেহরানকে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই অতিরিক্ত রণতরী পাঠানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতিও জোরদার করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে উত্তেজনা বিদ্যমান। নতুন করে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরীর অগ্রযাত্রা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে কি না—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।