আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হলো ইসরায়েল। স্বীকৃতির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সহযোগিতার লক্ষ্যে গৃহীত আব্রাহাম চুক্তির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসরায়েলি সরকারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে যে আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হয়েছিল, এই স্বীকৃতি তারই ধারাবাহিকতা। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মধ্যে নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নতুন কৌশলগত সম্পর্কের সূচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সোমালিল্যান্ড আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার পৃথক বিবৃতিতে জানান, দুই দেশ পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে একমত হয়েছে। এর আওতায় শিগগিরই রাষ্ট্রদূত নিয়োগ এবং উভয় দেশে দূতাবাস স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি তার মন্ত্রণালয়কে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে সোমালিল্যান্ড। তবে এতদিন কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহির সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।