ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করে ভারতের তদন্তের প্রশংসা করেছেন।
দিল্লি হামলার তদন্ত: গত সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং বলা হয়, এটি ‘দেশবিরোধী শক্তি দ্বারা সংঘটিত একটি জঘন্য সন্ত্রাসী ঘটনা’। মন্ত্রিসভা অপরাধী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি পুলিশ নিশ্চিত করেছে, বিস্ফোরণটি চলন্ত হুন্দাই আই-২০ গাড়ি থেকে হয়েছিল এবং সেই গাড়ির চালক ছিলেন উমর নবি, যার কাশ্মীরের বাড়ি ইতোমধ্যে বিস্ফোরক দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনায় ফরিদাবাদের আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন চিকিৎসককে সন্দেহমূলকভাবে আটক করেছে এনআইএ, যাঁদের মধ্যে ডা. ওমর মোহাম্মদকে মূল অভিযুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পাকিস্তানে আফগান সংযোগ: অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলার জট খুলেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিশ্চিত করেছেন, চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে আদালত চত্বরসহ দুটি স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলার পেছনে আফগানিস্তানের নাগরিকরা জড়িত। হামলায় জড়িত দুই বোমা হামলাকারীই আফগান বলে শনাক্ত হয়েছেন। ইসলামাবাদের জেলা আদালত প্রাঙ্গণে এই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।
দুই ফ্রন্টে প্রস্তুত পাকিস্তান: এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাঁর দেশ ভারত ও আফগানিস্তান—উভয় দেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা প্রস্তুত; পূর্ব (ভারত) ও পশ্চিম সীমান্তে (আফগানিস্তান) মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ইএফ/