যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সদস্যের গুলিতে আরও একজন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি, যিনি পেশায় একজন নার্স ছিলেন। এক মাসের ব্যবধানে একই শহরে বর্ডার পেট্রোল বা আইস সদস্যদের হাতে এটি দ্বিতীয় প্রাণহানির ঘটনা, যা নতুন করে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মিনিয়াপলিসে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় প্রেট্টি একটি ৯ মিলিমিটারের আধাস্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডগান নিয়ে অফিসারদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। নিরাপত্তা হুমকি মনে করে আইস সদস্যরা তাকে গুলি করে। তবে তিনি অস্ত্রটি অফিসারদের দিকে তাক করেছিলেন কি না—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা একজন পথচারী তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় প্রেট্টির হাতে একটি মোবাইল ফোন ছিল। দৃশ্যমানভাবে তার হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়নি। ভিডিওটি প্রকাশের পর নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
প্রেট্টির পরিবার জানিয়েছে, মিনেসোটায় বৈধভাবে অস্ত্র রাখার অনুমতি তার ছিল। তবে তিনি নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন—এমন কোনো তথ্য তাদের জানা ছিল না। পরিবারের দাবি, প্রেট্টি মিনিয়াপলিসে আইস সদস্যদের আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিশেষ করে যেভাবে সন্দেহভাজনদের আটক করা হচ্ছিল এবং প্রকাশ্যে মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছিল, তা তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল।
চলতি মাসের শুরুতেই মিনিয়াপলিসে রেনে গুড নামে এক নারী বর্ডার পেট্রোলের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন অ্যালেক্স প্রেট্টিও। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আইস সদস্যরা এক নারীর মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান প্রেট্টি।
পরপর দুটি প্রাণহানির ঘটনায় মিনিয়াপলিসে অভিবাসননীতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।