যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আটক ৬১৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। বুধবার দেওয়া এই আদেশের পর আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে এই আটককৃতদের মুক্তি দিতে হবে।
মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেফ্রি কামিংস এই আদেশ দেন। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন জাস্টিস সেন্টার (এনআইজেসি) ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) যৌথভাবে এই মামলাটি দায়ের করে। মামলায় বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছিল, গত জুনে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত "অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ" নামে পরিচিত অভিযানে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) বেআইনিভাবে বহু মানুষকে আটক করেছে। এসিএলইউ ও এনআইজেসি জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর প্রায় ৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনের মতো স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
বিচারক কামিংস তার রায়ে নির্দেশ দেন যে, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক আটকাদেশ নেই এবং যারা সমাজের জন্য কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেন না, তাদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এনআইজেসি-এর আইনজীবী মার্ক ফ্লেমিং এই রায়কে স্বাগত জানালেও এটি কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ আটককৃতরা দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছেন।
তবে আদালতের এই রায় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর। দপ্তরের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন এক বিবৃতিতে বিচারকের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একজন 'অ্যাক্টিভিস্ট বিচারক' ৬১৫ অবৈধ অভিবাসীকে মুক্তি দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কর্মীসুলভ বিচারক এবং আশ্রয়প্রদানকারী রাজনীতিক আইন প্রয়োগে বাধা দিচ্ছেন।
যদিও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর এখনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, তা জানায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আপিল করার জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময় চেয়ে রায়ের স্থগিতাদেশের আবেদন করেছেন।
ইএফ/