ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দেশটির সবচেয়ে বড় ও তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ হাদরামাউত এবং আল-মাহরা দখল করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। দখলকৃত এসব অঞ্চল ছেড়ে দিতে এসটিসির প্রতি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।
ডিসেম্বরের শুরুতে আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এসটিসি ওই দুই প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। হাদরামাউত ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং এর সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা সৌদির নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসটিসি ইয়েমেনকে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, ১৯৯০ সালের আগে যেমন উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন আলাদা ছিল, দেশকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে এই দাবিকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে পর্দার আড়ালে এসটিসিকে দখলকৃত অঞ্চল ছাড়তে অনুরোধ করছিল সৌদি আরব। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রকাশ্যে এই আহ্বান জানানো হয়।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইয়েমেনের সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ অত্যন্ত জরুরি। দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে— এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে সৌদি আরব।”
উল্লেখ্য, দখলকৃত হাদরামাউত ও আল-মাহরা আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসটিসির হঠাৎ দখলের ফলে সরকার ও এসটিসির মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই হুতি বিদ্রোহীদের বিরোধিতা করে, তবে এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ওই অঞ্চলগুলো দখল করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশের বড় একটি অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।