জাতিসংঘের দুই অঙ্গসংস্থা—শরণার্থী বিষয়ক ইউএনএইচআরসি এবং মানবাধিকার বিষয়ক ওএইচসিএইচআর—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধের নীতিতে তাড়াহুড়ো না করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্র জেরেমি লওরেন্স বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে শরণার্থীদের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত।” ইউএনএইচিআরের মুখপাত্র ইউজিন বাইউন বলেন, “যখন কোনো জনসমষ্টি শরণার্থী হিসেবে কোনো দেশে আসে, তারা সাধারণত সেই দেশের আইন মেনে চলে। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”
এই সতর্কবার্তার প্রেক্ষাপট হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকনওয়ালের ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের ওপর বন্দুক হামলার ঘটনা। হামলায় দুই জন গুরুতর আহত হন, একজন ইতিমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন। তদন্তে জানা গেছে, লাকনওয়াল আফগানিস্তানে মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীর সময় সিআইএ-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছে, যেসব আফগান নাগরিক স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
এরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, তৃতীয় বিশ্বের সব দেশে থেকে অভিবাসী নেওয়া বন্ধ করা হবে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সতর্ক করেছেন, এই ধরনের নীতিমালা বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করা গেলে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন বিরুদ্ধ পদক্ষেপ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিবাসী নীতি প্রণয়নে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।