ডিম খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। শরীরের প্রতিটি কার্যক্রম সচল রাখতে প্রোটিন অপরিহার্য, আর ডিম সেই প্রোটিনেরই অন্যতম উৎস। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম যোগ করলে শরীর শুধু প্রোটিনই পায় না, সঙ্গে মেলে চোখ, লিভার, মস্তিষ্ক ও শক্তি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ফাংশনগুলোর অতিরিক্ত সাপোর্টও।
থেকে জানা যায়, হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সেথি জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ ডিম খেলে শরীরে কী ধরনের উপকার পাওয়া যেতে পারে। তিনি ডিমের পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, পুরো ডিমই অত্যন্ত নিউট্রিয়েন্ট-ডেন্স। ডিমের কুসুমে থাকে প্রায় ২.৫ গ্রাম প্রোটিন, আর সাদা অংশে থাকে ৪ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন। চলুন দেখে নেয়া যাক, ডিমকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে কী কী উপকার পেতে পারেন—
১. দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা
ডিমে থাকা নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী। ডা. সেথির মতে, ডিম ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ক্যাটারাক্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয়।ম্যাকুলার ডিজেনারেশনে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়, আর ক্যাটারাক্টে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে আসে।
২. মস্তিষ্ক ও লিভারকে সাপোর্ট দেয়
ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ কোলিন, যা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি নিউট্রিয়েন্ট। এটি মেমোরি, ফোকাস ও ব্রেন-হেলথ ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কোলিন ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায়, যা বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ একটি লাইফস্টাইল রোগ। ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস, কম নড়াচড়া এবং স্ট্রেস সবকিছু মিলিয়েই ফ্যাটি লিভার বাড়ছে। ডিম সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৩. কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা
ডিম খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় এই ধারণা অনেকেরই। কিন্তু বিশেষজ্ঞের মতে, ডিম ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা হার্টের জন্য উপকারী। এ ছাড়া সকালে নাশতায় ডিম খেলে রক্তে গ্লুকোজ স্থিতিশীল থাকে, ফলে সারাদিন শক্তি বজায় থাকে। রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হলে ক্লান্তি ও দুর্বলতাও কম অনুভূত হয়।
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম যোগ করা স্মার্ট এবং স্বাস্থ্যকর একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। টানা দুই সপ্তাহ ডিম খাওয়া যেমন চোখ, লিভার ও মস্তিষ্কের যত্ন নেয়, তেমনি শরীরের শক্তি ব্যবস্থাপনা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
তবে মনে রাখবেন যাদের বিশেষ ধরনের অ্যালার্জি, কিডনি সমস্যা বা ডাক্তারি পরামর্শে নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে ডিমের পরিমাণ নির্ধারণের আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নেয়াই ভালো।