জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, একটি আধুনিকভাবে সাজানো সেইফ হাউজে রাতভর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও চাপ দেওয়া হয়েছিল।
এদিন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে হাজির ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। মামলায় সাবেক বেরোবি ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামি রয়েছেন। তিনি বলেন, “১৬ জুলাই সারা দেশে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জন শিক্ষার্থী শহীদ হন। পরদিন গায়েবানা জানাজার সময় আমরা পদ্মায় তুলে নেওয়া হয় এবং বৈঠকের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়, কিন্তু আমরা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি হইনি।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও জানান, সেই রাতে মৎস্য ভবনের পাশে অবস্থিত একটি ঘরে তাদের রাখা হয়েছিল। বাইরের দিক থেকে ঘরটি পরিত্যক্ত মনে হলেও, ভেতরে আধুনিকভাবে সাজানো ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থাগুলি এটিকে ‘সেইফ হাউজ’ বলে উল্লেখ করে। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে তাদের উপর রাতভর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং পরিবারকে হুমকির মুখে রাখা হয়।
তিনি বলেন, “সেইফ হাউজে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হয় যে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি বলে সারা দেশে ঘোষণা করব। তবে আমরা এতে রাজি হইনি।” হাসনাতের সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুর দেড়টার পর বিরতি দিয়ে পরে আবার চলবে।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য আইনজীবী। জবানবন্দিতে উঠে আসা এই তথ্য আগামী শুনানিতে মামলার প্রেক্ষাপটকে নতুন দিক দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।