জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দীর্ঘ অনুসন্ধান, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট শুরু হয় মামলার তদন্ত। একই বছরের ১৬ অক্টোবর মিস কেস ফাইল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বাকি দুজনের বিরুদ্ধে পরের দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এরপর ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন জমা হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
ফরমাল চার্জের সঙ্গে ১৪ খণ্ডে প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এতে পত্র-পত্রিকা, দেশের ও আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন, শহীদ-আহতদের তালিকা, পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল প্রতিবেদন, অস্ত্র ও বুলেট ব্যবহারের হিসাব, ভিডিও ও অডিও উপাদান, পেনড্রাইভ, বই ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে নিজের দোষ স্বীকার করেন। ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য দেন। ১২ অক্টোবর থেকে ৯ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক এবং ২৩ অক্টোবর সমাপনী বক্তব্যের পর রায় ঘোষণার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন এই মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনে: উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে ছয়জন হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জন হত্যা ও লাশ পোড়ানো। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪০০ জনের বেশি ছাত্র-জনতা নিহত এবং বহুজন আহত হন। প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে এবং ক্ষতিপূরণ শহীদ-আহত পরিবারদের জন্য দাবি করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সঙ্গে দেশের মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হবে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, দেশের বিচারব্যবস্থার শক্তি ও স্বচ্ছতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।