জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার তৃতীয় দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছে। মামলাটিতে মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেলে আজকের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, এদিন প্রসিকিউশন মামলার অবশিষ্ট যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি সাক্ষ্যপ্রমাণের আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক পর্ব প্রায় শেষের দিকে পৌঁছাবে।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তিতর্ক শুরু করে। পরদিন ২২ জানুয়ারি দিনব্যাপী শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সংগৃহীত আলামত, নথিপত্র এবং বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক উপাদান ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন। ওই শুনানিতে প্রসিকিউশন দাবি করে, উপস্থাপিত প্রমাণে আসামিদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। সেদিনের শুনানি শেষে আদালত আজ পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি করেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরা গত ১৪ জানুয়ারি সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে এ পর্যন্ত ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
অন্যদিকে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
টানা তিন দিনের রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।