জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন ৩০ আসামির ব্যক্তিগত দায় উপস্থাপন সম্পন্ন করলেও সময়ের অভাবে তার সাক্ষ্য পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালে রুহুল আমিনের জবানবন্দি শুরু হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন আদালতের সামনে তদন্ত কর্মকর্তা অবশিষ্ট ১৪ আসামির ব্যক্তিগত ভূমিকা ও দায় তুলে ধরেন। পাশাপাশি আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড এবং এর প্রেক্ষাপটে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন আলামতের বিবরণ দেন। তিনি জানান, বিবিসি বাংলা, আল জাজিরাসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ভিডিও কীভাবে সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য তিনি আদালতে উপস্থাপন করেছেন।

তবে জব্দ করা সব অডিও-ভিডিও উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা এখনো শেষ না হওয়ায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৬ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ অডিও-ভিডিও আলামত আদালতে প্রদর্শনের কথা রয়েছে।

এদিকে, সোমবার সকালে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। মামলার প্রধান আসামি সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত চার আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই মামলায় রুহুল আমিন সর্বশেষ তথা ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যদিও প্রসিকিউশন মোট ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছে। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় এবং ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।