মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।

ট্রাইব্যুনাল চত্বরে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও মোতায়েন রয়েছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। ট্রাইব্যুনালের আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়, এবং প্রবেশপথে চলছে কড়া তল্লাশি। শুধুমাত্র অনুমোদিত সাংবাদিক ও আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

রায়ের তারিখ ঘিরে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।

আজ সকাল ১০টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। অপরদিকে, আসামিপক্ষ তাদের খালাস চায়।

মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে খালাসের আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও অন্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে—এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, হত্যাকাণ্ড ও লাশ গোপন করা। সাক্ষী হয়েছেন ৮৪ জন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় গত ১২ মে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটির কিছু অংশ। তবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এসব হুমকিতে তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়।