জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হচ্ছে। মামলাটিতে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আটজন আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। আদালত সূত্র জানায়, প্রথমে প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। এরপর গ্রেপ্তার ও পলাতক—উভয় শ্রেণির আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক পেশ করবেন। সবশেষে হবে প্রসিকিউশনের পাল্টা যুক্তি খণ্ডন। এই ধাপ শেষ হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মধ্যেই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাবে।

এর আগে মামলার গ্রেপ্তার আসামি শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের পক্ষে একাধিক সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১০ ডিসেম্বর তার পক্ষে সাক্ষ্য দেন জুয়েল মাহমুদ। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন এবং ওই দিন আরশাদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সরকার পতনের খবর তাকে জানান।

৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে নিজেই সাফাই সাক্ষ্য দেন আরশাদ হোসেন। তিনি জবানবন্দিতে দাবি করেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় তিনি দায়িত্ব পালন করলেও চানখারপুল এলাকায় কোনো ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেননি। একই দিনে সাফাই সাক্ষ্য দেন মো. সোলাইমান। সব মিলিয়ে তিনজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। তাদের জেরা শেষে যুক্তিতর্কের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার তদন্ত পর্যায়ে মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম দীর্ঘ সাক্ষ্যে চানখারপুলের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও জব্দকৃত আলামতের ব্যাখ্যা দেন। ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে টানা তিন দিনে তার সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং পরে স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। এ মামলায় মোট ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।

গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন—মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আরও তিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।