জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের রায় শুনতে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন আহত জুলাইযোদ্ধারা।

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের পরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন রাকিব হাওলাদার, নিয়ামুল ও আরও কয়েকজন যোদ্ধা। তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও আহত হয়ে আসছেন, তাই এই রায় তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বেলা ১১টায় ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলায় পলাতক রয়েছেন শেখ হাসিনা ও কামাল, কিন্তু সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে ছিলেন। তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ফলে তার শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটের পর কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকা বহুস্তর নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্বে আছেন। গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয়ভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে দোয়েল চত্বরে ও শিক্ষাভবন সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

মামলায় ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে। এরপর ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের যুক্তিখণ্ডন হয়েছে। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ও চিফ প্রসিকিউটরের সমাপনী বক্তব্যের পর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ এনেছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পরিমাণ ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা ও শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত। ৮৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।