জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীসহ ১৭ জনকে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আনা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা একে একে আসামিদের প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেন।

আজকের কার্যদিবসে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানি নেবে। আদালত চত্বরে সকাল থেকেই ছিল বাড়তি নিরাপত্তা; প্রবেশপথে তল্লাশি শেষে দর্শনার্থী ও আইনজীবীদের ঢুকতে দেওয়া হয়।

এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম ও ফারুক খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, সালমান, আনিসুল, ইনু ও পলকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আলাদা আলাদা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ইনুর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণও চলছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-১ পলক এবং সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রেখে গণহত্যা সংঘটনের অভিযোগ আমলে নিয়েছে। জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।

অন্যদিকে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা–হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগও আদালত আমলে নিয়েছে এবং শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে।

এ ছাড়া পৃথক মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ ছিল আজকের মধ্যেই। অতীতে প্রসিকিউশন দুই দফায় সময় চাইলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

এ বছর ২০ এপ্রিল এবং তার আগে ১৮ ফেব্রুয়ারিতেও বিভিন্ন সময় এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর একসময়ের ক্ষমতাধর এই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক চার্জ শিগগিরই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।