শীতের সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা হলো একসময়ের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের। রোববার (৮ ডিসেম্বর) কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে আনা ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
প্রিজনভ্যান থেকে নামার সময় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান হাসিমুখে হাজতখানায় প্রবেশ করেন। তবে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলককে কিছুটা বিষণ্ণ দেখা গেছে। হাজতখানায় তাদের নিয়ে যায় ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
হাজতখানায় উপস্থিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প-বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। অসুস্থতার কারণে সাবেক এমপি ফারুক খান হাজির হননি।
সালমান, আনিসুল, ইনু ও পলকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা ফরমাল চার্জ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ কিছু আসামির বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই ফরমাল চার্জ দেওয়া হবে।
প্রসিকিউশন এবং ট্রাইব্যুনালের মধ্যে চলমান সময়সীমা ও হাজিরার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, একসময়ের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জ জমা দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।