জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বিচার শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান ও সহিদুল ইসলাম। রেদোয়ানুলসহ গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ছিলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। মামলায় পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান।
এর আগে ১৪ ডিসেম্বর শুনানির কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা হয়নি। ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ানুল ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতকদের হাজির করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রামপুরায় ওই সময় আন্দোলনের সময় নিহত ২৮ জনের ঘটনায় রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালাতে দেখা যায়। অন্যান্য আসামিরাও হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।