জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র ও সাধারণ জনতাকে হত্যা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ শুনানি পরিচালনা করছে। প্যানেলের অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য আইনজীবী।
প্রসিকিউশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন। সালমান-আনিসুলের পক্ষে লড়াইয়ে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, যার ওপর আজ পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রসিকিউশন এবং আসামিপক্ষের মধ্যে আইনানুযায়ী বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও দেখা দিয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সালমান ও আনিসুলের ফোনালাপ ও নির্দেশনায় বলা হয়েছিল কারফিউ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের “শেষ করে দিতে হবে।” এরপর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হত্যাসহ অগণিত সহিংসতা সংঘটিত হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হক ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা বিভিন্ন হত্যাসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের এই শুনানি তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ।