জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কড়া নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর তাকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতে আনে পুলিশ।
এই মামলায় পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করবেন।
রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর চৌধুরী মামুনের শাস্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন। অপরদিকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে।
গত ২৩ অক্টোবর এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অন্য রাষ্ট্রনেতাদের বিচারের উদাহরণ তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিপক্ষের যুক্তির জবাব দেন, এবং স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন তাদের বক্তব্যের পাল্টা উত্তর উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের জন্য স্থির করে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রায় ঘোষণা হতে পারে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে গণহত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।
এই মামলার অভিযোগনামা ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যেখানে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, প্রমাণাদি ও জব্দতালিকা ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠায় বিস্তৃত। ৮৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলাটিতে। গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।