সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দেওয়ার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা একাধিক আপিলের দশম দিনের শুনানি শুরু হয়েছে আজ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। শুনানি চলাকালে আদালতে উপস্থিত রয়েছেন প্রসিকিউশন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুজন’-এর প্রতিনিধি দল।
এর আগে ২১ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নয় দফায় এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ চলছে দশম দিনের কার্যক্রম।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিল, যার ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। এরপর একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যা ৩ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে পরবর্তীতে বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথকভাবে আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে গৃহীত ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়। এর বৈধতা নিয়ে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়, যা ২০০৪ সালে খারিজ হয়। পরে আপিল বিভাগের রায়ে এই ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আইনজীবী মহল বলছেন, এই শুনানি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম বুধবার সকাল ১০টায় পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।