রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ (মঙ্গলবার) ১৫তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিনের শুনানি গ্রহণ করবেন। প্যানেলের নেতৃত্বে আছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন ট্রাইব্যুনালে দুজন নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ১৬ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন মিঠাপুকুর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক। তিনি গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। এরপর উপস্থিত ও পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম, সাইমুম রেজা তালুকদার এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ আরও অনেকে। ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ায় মামলার অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এর আগে ১৩ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন পুলিশের নায়েক আবু বকর সিদ্দিক। ১২ নভেম্বর জবানবন্দি দেন এসআই (সশস্ত্র) আশরাফুল ইসলাম। তিনি জানান, রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এএসপি আরিফুজ্জামান এবং তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে ছোড়া গুলিতেই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়। ১১ নভেম্বর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ এবং ১০ নভেম্বর বেরোবির শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান জবানবন্দি দেন। নানা কারণে ২১ অক্টোবর, ১৩ অক্টোবর ও ৪ নভেম্বর নির্ধারিত তিন দিনে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়।
মামলার গ্রেপ্তার ছয় আসামি এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ সাক্ষ্যগ্রহণে উপস্থিত থাকছেন নিয়মিতভাবে। তবে সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক। তাদের পক্ষে সরকারের ব্যয়ে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তার আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত সংস্থা গত ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৩০ জুন তা আমলে নেওয়া হয়। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন নির্ধারিত রয়েছে।