সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দুই বিচারক ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ের খবর প্রকাশ হতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেন। জনতা ‘শেখ হাসিনার ফাঁসি হলো’, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, শেখ হাসিনার ফাঁসি দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ট্রাইব্যুনালের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে, এবং ট্রাইব্যুনাল এলাকা জোরদার তল্লাশির আওতায় রাখা হয়।

শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট। দীর্ঘ ২৮ কার্যদিবস ধরে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও ৯ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষিত হলো। প্রসিকিউশন তাদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করে।

রায়ের পর আহত জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে দেখা গেছে ট্রাইব্যুনালের বাইরে আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করতে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্বচ্ছভাবে চলবে।