ঢাকার গুলশান থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।

গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা, পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুমাইয়া জাফরিনের বিরুদ্ধে মামলা এসেছে ২২ এপ্রিলের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে। গুলশান-১ এর জব্বার টাওয়ারের কাছে সরকারি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও অন্যান্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রায় ৩০–৩৫ জন বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দেশবিরোধী স্লোগান দেন। পুলিশ অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে, বাকিরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে জানা গেছে, সুমাইয়া জাফরিন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের অর্থ যোগানদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের কার্যক্রমে অর্থ এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন। এছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সঙ্গে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ উল্লেখ করেছে, আসামি দেশের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করার উদ্দেশ্যে কাজ করছেন।

ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামুন আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন যুক্তি উপস্থাপন করেন। আদালত শুনানি শেষে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

এর আগে সুমাইয়া জাফরিনকে ভাটারা থানার মামলায় গত ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১২ আগস্ট রিমান্ড শেষে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পুলিশের উদ্দেশ্য, মামলার সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।