বগুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকসহ এক হাজার ৩৩৮ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন পদায়ন না হওয়ায় ওইসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান করতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আর চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর ভবনের বেহাল দশায় ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। 
বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাজলা চরের বেড়া পাঁচাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের পলেস্তরা খুলে পড়ছে। প্রায় অর্ধযুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও ভবনটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শতবর্ষ পুরোনো পাশের চর জামথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও আধাপাকা ভবনেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

এই দুই বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। সহকারী শিক্ষকের সাতটি পদের বিপরীতে দুই বিদ্যালয়ে শত শত শিক্ষার্থীর পাঠদানের মাত্র তিনজন করে শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বগুড়ার ১২ উপজেলায় এক হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৮৬৫ টিতে। এছাড়া শূন্য রয়েছে সহকারী শিক্ষকের আরও ৪৭৪ টি পদ। সবচেয়ে বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের চরাঞ্চলজুড়ে।


সবচেয়ে কম শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে দুপচাঁচিয়া উপজেলায়। সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ধুনট উপজেলায়। বগুড়া সদর উপজেলায় শূন্য পদ রয়েছে ৭৩টি। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে ৭২টি এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে একটি। ধুনট উপজেলায় ১৫৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে ১১৮টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ওই উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৩৭টি। আদমদীঘি উপজেলায় শূন্য পদ রয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৫৭টি এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে ২৫টি। কাহালু উপজেলায় ৬৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৭টি এবং সহকারী শিক্ষকের আটটি। গাবতলী উপজেলায় ১২২টি পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১০২টি এবং সহকারী শিক্ষকের ২০টি। দুপচাঁচিয়া উপজেলায় শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৬৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৫৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের সাতটি পদ খালি রয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় ৮৫টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৭৮টি এবং সহকারী শিক্ষকের সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। শেরপুর উপজেলায় ৮৫টি শূন্য পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৭৩টি এবং সহকারী শিক্ষকের ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলায় ১৫১টি শূন্য পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৯৯টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৫২টি পদ রয়েছে। সোনাতলা উপজেলায় ১২০টি শূন্য পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৭৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলায় ৮৬টি শূন্য পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৭১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
শুধু তাই নয় চরাঞ্চলের তিন উপজেলায় রয়েছে দেড়শোর বেশি আধাপাকা বিদ্যালয় ভবন। আর পুরো জেলায় সংস্কারের প্রয়োজন এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে অন্তত ২০০টি। এতে করে একদিকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে, অন্যদিকে জনবল সংকটে পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানান, মামলার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই এ ব্যাপারে সমাধান হবে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সার্কুলার জারি করতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো মেরামতের দ্রুত কাজ শুরু হবে।