অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যদি পাঠ্যপুস্তকগুলো প্রিন্ট হয়ে যায়, তবে তা বিতরণ করা হবে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের সাথে বইয়ের কি সম্পর্ক? নির্বাচন তো বলবে না– বই দেওয়াও যাবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর কিছু রেস্ট্রিকশন থাকলেও আমরা বই বিতরণের জন্য আরও উৎসাহিত হব। ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাকি বইগুলো আমরা রিটেন্ডার করেছি এবং সবগুলোই অনুমোদিত। আশা করি যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তকগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাবে।”

শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা জানুয়ারির মধ্যে যতটা সম্ভব বই বিতরণ করব। দুই-একটি শ্রেণির ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হতে পারে, তবে বাকিগুলো আগেই পৌঁছে যাবে। কোয়ালিটি বজায় রাখা হবে।”

বৈঠকের অন্যান্য বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, বাজারে মসুর ডালের দাম কমানোর জন্য সরকারি প্রিপারেশন নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজের সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে যাতে দাম স্থিতিশীল থাকে। তিনি আরও জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। শুধু মনিটারি পলিসি বা সুদের হার বৃদ্ধি করলেই তা নিয়ন্ত্রণে আসবে না, বরং সাপ্লাই চেইনের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ।

ড. সালেহউদ্দিন এও উল্লেখ করেন, খুচরা ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের কিছু কার্যপদ্ধতি বাজারে মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করছে। তবে সরকারি পক্ষ থেকে সঠিক ও স্বচ্ছভাবে বাজার পরিচালনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক বিতরণে কোনো বিলম্ব হলে তা প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের কারণে নয়, বরং প্রিন্টিং ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার কারণে হতে পারে, এবং সরকার যথাসময়ে বই বিতরণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে।