বিইউবিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ প্রোগ্রামিং বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা 'ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট' (আইসিপিসি) এর এশিয়া ঢাকা রিজিওনাল পর্বের আয়োজন নিয়ে প্রস্তুত এখন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। আগামী ২০ ডিসেম্বর বিইউবিটির নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আয়োজনকে সামনে রেখে গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

রেকর্ড সংখ্যক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের রিজিওনাল কনটেস্টে সারা বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। মোট ৩১৩টি টিমের ৯৩৯ জন মেধাবী খুদে প্রোগ্রামার এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যা দেশের আইসিপিসি ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা। বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী তার বক্তব্যে বলেন, "এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সেরা মেধাগুলোকে খুঁজে বের করা এবং তাদের বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা।" উল্লেখ্য, এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো এই আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের গৌরব অর্জন করেছে বিইউবিটি।

বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. শামসুল হুদা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইসিপিসি এশিয়া ঢাকা সাইট ২০২৫-এর আরসিডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশ্নের উত্তর দেন এনএসইউ-এর অধ্যাপক ড. আবুল লায়েস এম. এস. হক এবং আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস বিচারক শাহরিয়ার মঞ্জুর। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের আসর থেকে এমন কিছু প্রোগ্রামার উঠে আসবে যারা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।

প্রযুক্তি বিকাশে মাইলফলক দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন যাত্রায় এই আইসিপিসি আয়োজনকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকৌশল ও ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুন্সী মাহবুবুর রহমান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০ ডিসেম্বরের এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও কারিগরি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা প্রতিযোগীদের জন্য এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও নেটওয়ার্কিংয়ের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হতে চলেছে।