প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত স্কুলিং কাঠামোর বিরুদ্ধে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে বিক্ষোভে নেমেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ এই কাঠামো কার্যকর হলে কলেজের ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ বিলুপ্ত হয়ে শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটির স্বকীয়তা গভীর সংকটে পড়বে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। তারা বলেন, নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো কলেজকে ‘ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল’ ধরনের পরিচয়ে নামিয়ে আনবে, যা দেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল হাসান বলেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় আইন শুধু ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ নয়, পুরো ঢাকা কলেজের গৌরবময় ইতিহাসকেই ঝুঁকিতে ফেলছে। তার ভাষায় ঢাকা কলেজ একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, শুধুমাত্র নতুন কাঠামোর পরীক্ষাগার হতে পারে না। আমরা চাই, ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ তার নিজস্ব নাম ও ঐতিহ্য বজায় রেখে চলুক।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, কয়েক প্রজন্ম ধরে ঢাকা কলেজে পড়ার স্বপ্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর। তিনি বলেন, ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ বিলুপ্ত হলে অনুপ্রেরণার এই উৎস হারিয়ে যাবে। আমাদের পরের প্রজন্ম যদি কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র নামে পরিচিত হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কলেজের দুই বছরের পাঠক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গত ১৪ অক্টোবর একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছিল।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানিয়েছে, রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। ১২ নভেম্বর জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি না ছড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।