প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এবং যুগান্তর, ডিডিআরসি ও এওয়াক-এর সহযোগিতায় থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী মেলা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন।

সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফরিদুল আলম।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী ভাই-বোনরাও দেশের সম্পদ। তাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে হলে আগে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে। কার কী সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় কাকে যুক্ত করা যাবে, কোন সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে, এসব নির্ধারণ করেই এগোতে হবে।” তিনি আরও জানান, প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

প্রধান অতিথি কমিশনার জিয়াউদ্দীন বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিবন্ধী সহায়ক অবকাঠামো না থাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানান ভোগান্তি পোহাতে হয়। সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের আচরণে মানবিকতার জায়গাটা আরও বড় করতে হবে।”

আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সমাজের সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন রামপুর প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ডিডিআরসি নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, যুগান্তর নির্বাহী পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন, সিডিডি নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী এবং মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মারশেদ হোসেন।

সমাপনীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে হুইলচেয়ার, ক্রাচ এবং স্মার্ট সাদা ছড়িসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুযোগ সম্প্রসারণে এমন উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।