বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের লালন-পালন করতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে বাবা-মায়েদের। পরিবারে কখনো ঘটছে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ নানা প্রতিবন্ধিতার শিকার হলেও চিকিৎসা সেবা অপ্রতুল। এই যখন দশা তখন 'প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি' এই স্লোগানে দেশে পালিত হচ্ছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস।

জাহানারা বেগমের বয়স ৩৫। জন্মের পর থেকেই হাঁটতে পারেন না তিনি। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন রহিম নামের এক যুবককে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে নেয়নি জাহানারাকে।

বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। একর্যায়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন জাহানারা। ১১ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে সমাজে লড়াই করেই টিকে থাকতে হচ্ছে এই মাকে।


অন্যদিকে ৭ বছরের আইয়াশ ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। সব কাজে বাবা-মায়ের সহযোগিতা নিতে হয় ছোট্ট আইয়াশকে।আইয়াশের মতোই মিরপুরের পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে দেখা মিলল এমন অসংখ্য গল্প। সন্তানের চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন বাবা-মায়েরা। যারা সন্তানকে একটি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। যে কারণে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয় পরিবারগুলোকে।


জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতা হলো, কোথায় কীভাবে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবারগুলো জানে না।
দেশের ৩ কোটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের সিংহভাগের জীবনে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসের কোনো প্রভাবই নেই। তাদের লড়াইটা প্রতিনিয়ত সমাজের এমনকি কিছুক্ষেত্রে নিজের পরিবারের সঙ্গেও।