শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই রাজধানীর উত্তরা–বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ না করার আহ্বান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচারের আন্দোলন চলমান থাকলেও সাধারণ মানুষের জরুরি যাতায়াত—বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রীদের ফ্লাইট—ব্যাহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলনের নৈতিকতা বজায় রাখতে বিমানবন্দরের সড়ক খোলা রাখা জরুরি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের উত্তরা এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিচার আদায়ের সংগ্রাম কখনোই সাধারণ মানুষের জীবনে অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে না। বিশেষ করে বিমানবন্দরমুখী সড়ক বন্ধ থাকলে অনেক যাত্রীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবদুল্লাহ আল জাবের তার বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের ভাইয়েরা যারা উত্তরা এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন, তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ—এয়ারপোর্টে যাওয়ার মূল সড়ক দয়া করে অবরোধ করবেন না। আপনারা চাইলে রাস্তার এক পাশ বা বিকল্প স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ চালাতে পারেন, কিন্তু কোনোভাবেই বিমানবন্দরগামী যান চলাচল বন্ধ করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু করতে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বিদেশে যাচ্ছেন। আন্দোলনের কারণে যদি কারও ফ্লাইট মিস হয়, তাহলে সেটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়—ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আন্দোলন পরিচালনা করা সবার দায়িত্ব।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, হাদি হত্যার বিচার দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসেনি। তবে এই আন্দোলনকে জনবান্ধব ও নৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে রাখতেই এমন আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন ধরে রাখতে হলে আন্দোলনের ধরন ও কৌশলে দায়িত্বশীলতা থাকা জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে আবদুল্লাহ আল জাবের আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “ন্যায়বিচারের পথে আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। আসুন, এমন কিছু না করি যাতে নিরপরাধ মানুষ কষ্ট পায় বা আমাদের আন্দোলনের নৈতিক শক্তি ক্ষুণ্ন হয়।”