জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করা কঠিন হলেও এতে অসুবিধার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, প্রশাসনিক, মানবসম্পদ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার দিক থেকে একদিনে ভোট গ্রহণই অধিক বাস্তবসম্মত।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একদিনে আয়োজনকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ বলেছেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা গ্রহণ করতে হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন একদিনেই করতে হবে। দুই দিন ভোট আয়োজন মানে রিটার্নিং কর্মকর্তা, ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা, স্কুল শিক্ষকসহ হাজারো জনবলকে দুই দিন মাঠে নামানো, যা অত্যন্ত কঠিন।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই একই দিনে এসব আয়োজন করা হয়। প্রশাসনিক দিক থেকে একদিনেই করা যুক্তিসঙ্গত।
নির্বাচন ও গণভোট একদিনে হলে বাজেট বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো অতিরিক্ত চাহিদা জানায়নি। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলেছি নির্বাচন ও গণভোটে প্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়তে পারে। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জনবল সব ক্ষেত্রেই বাড়তি খরচ হতে পারে। বাজেট রিভাইজ করার সময় তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ডিসেম্বরেই সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করা হবে এবং জানুয়ারিতে তা নতুন সরকারের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়তে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ বাজেট প্রণয়নের সময় গণভোটের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল না।
সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ২৫ নভেম্বর থেকে দূতাবাসগুলোতে বিদেশি বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন শুরু হবে। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বাড়তি বাজেট চাইতে পারে। সিঙ্গাপুর ও জাপানে প্রস্তুতি দেখে এসেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওভারটাইমসহ কিছু খরচ যুক্ত হবে, যা অর্থ মন্ত্রণালয় বহন করবে, বলেন তিনি।