চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে দেশে ফেরা দুই যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ সিগারেট এবং আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম জব্দ করেছে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ টিম। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে বিমানবন্দরের আগমন হল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে নামেন দুই যাত্রী মো. ফখরুল ইসলাম ও মো. আশরাফুল ইসলাম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস শাখা, এনএসআই এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা তাদের ব্যাগেজে তল্লাশি চালান। এসময় ১৯৯ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ২৫০ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম উদ্ধার করা হয়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আটক পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ‘মন্ড’ ব্র্যান্ডের সিগারেট। এগুলো সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে দেশে আনার অনুমতি নেই, ফলে কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে এসব বহন করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে গৌরী ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম দেশে আমদানিও নিষিদ্ধ, কারণ এতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, জব্দকৃত সিগারেটের আনুমানিক রাজস্ব মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি বলেন, উদ্ধার করা সব পণ্য পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তবে আটক দুই যাত্রীকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে কাস্টমস বিভাগ মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবার অপরাধ হওয়ায় এবং যাত্রীরা সহযোগিতা করায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীবাহী লাগেজে পণ্যচালান আনার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নিয়ম ভেঙে পণ্য আনার চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কাস্টমস।