জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পাঠানো এক চিঠিতে সরকার জানায়, একই দিনে উভয় ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। বিষয়টি শনিবার (২২ নভেম্বর) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব বলেন, সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে গণভোট আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি জানান, চিঠি পাওয়ার পর কমিশন প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে এবং খুব শিগগিরই এ নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হবে।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, গণভোটের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পেলেই ইসি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছানোর পর কমিশন এখন এ নিয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করতে গেলে কেন্দ্র, ব্যালট, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও ফলাফলের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি দরকার হবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যালট পেপারের নকশা, ভোটগ্রহণ সরঞ্জাম এবং গণভোট–সংক্রান্ত সচেতনতামূলক নির্দেশিকা দ্রুত প্রস্তুত করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে দুটি বড় নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা প্রশাসনিকভাবে কঠিন হলেও এটি সময় ও আর্থিক ব্যয় কমাতে পারে। তবে ভোটারদের সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পর্যাপ্ত প্রচার ও নির্দেশনা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এখন গণভোট একই দিনে হওয়ায় সময়সূচি ও প্রস্তুতি নতুনভাবে সাজাতে হচ্ছে কমিশনকে।