রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একটি বাসার ছাদে ধূমপান করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. রিয়াদ (২৫) নামে এক যুবক। তিনি পেশায় একজন ক্যামেরা টেকনিশিয়ান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

আহত রিয়াদ ভোলা জেলার দৌলতপুর উপজেলার উত্তর জয়নগর খাসেরহাট গ্রামের বাসিন্দা রুমান খন্দকারের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি ঢাকায় বসবাস করছিলেন এবং কদমতলীর শনির আখড়া এলাকায় পলাশপুর সিকদার ভিলার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

রিয়াদের সহকর্মী সোহান জানান, ঘটনার সময় রাতের দিকে ওই বাসার পঞ্চম তলার ছাদে এক অজ্ঞাতনামা যুবক ধূমপান করছিলেন। রিয়াদ নিয়মিত পায়চারি করার উদ্দেশ্যে ছাদে উঠলে ধূমপানরত ওই ব্যক্তিকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ধূমপানকারী যুবক হঠাৎ ধারালো অস্ত্র বের করে রিয়াদের ওপর হামলা চালান। হামলায় রিয়াদের মাথা, বুকের বাম পাশের পাঁজর এবং পেটে একাধিক আঘাত করা হয়।

ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন ও সহকর্মীরা রিয়াদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, কদমতলী এলাকা থেকে গভীর রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কদমতলী থানাকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হামলাকারীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।