বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটি অন্যতম প্রথম উচ্চপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কো রুবিও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিস্তর ক্ষেত্র রয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে ফলপ্রসূ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

এর আগে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ঢাকা এক শুভেচ্ছা বার্তায় সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানায়। একই বার্তায় বিএনপি ও তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের এ বার্তা কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে ওয়াশিংটন। নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোন গতিপথে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বার্তা ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।