ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ভারতকে দায়ী করে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। একই সঙ্গে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন অবিলম্বে বন্ধ ঘোষণা এবং সেখানে কর্মরত সব কূটনীতিককে বহিষারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস ও জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শরীফ ওসমান হাদীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত চাওয়া হয়।
দোয়া মাহফিল-পূর্ব আলোচনায় সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, হাদীর ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার দাবি, সরাসরি ভারতের মদদেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীরা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তারা পরিচিত ভারতপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত ক্যাডার।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের বহু খুনি ও সাজাপ্রাপ্ত আসামির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে ভারত। গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিরীহ বাংলাদেশিরা নিহত হচ্ছে। এমন রাষ্ট্র কখনো বন্ধু হতে পারে না।”
আলোচনায় ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বয়ানের সমালোচনা করে মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রাম হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব বলেন, “জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।” তার মতে, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম কণ্ঠস্বর হাদীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারত বাংলাদেশে প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জনগণকে ভারতীয় পণ্য বর্জন এবং “দেশবিরোধী দালালদের” প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিনি।