নিজের ভোট নিজে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষায় যেন ঈদের আমেজ নেমে এসেছে রাজধানীর সদরঘাটে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়, ব্যস্ততা আর মানুষের চোখেমুখে আলাদা এক প্রত্যাশার ঝিলিক। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে, কেউবা বিকল্প পথ বেছে নিয়ে ছুটছেন গ্রামের বাড়ির দিকে—উদ্দেশ্য একটাই, ভোটাধিকার প্রয়োগ।

সদরঘাটে দাঁড়িয়ে পটুয়াখালীগামী তরুণ সোহেল আহমেদ বলেন, জীবনে কখনো ভোট দিতে পারেননি তিনি। ২০১১ সালে ভোটার হলেও নানা কারণে ব্যালট দিতে পারেননি আগের কোনো নির্বাচনে। এবার তাই পরিবার নিয়ে শত কষ্ট মাথায় নিয়েই বাড়ি ফিরছেন। সকাল থেকে সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ীতে অপেক্ষা করেও বাসের টিকিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত লঞ্চে উঠেছেন। তার ভাষায়, “শান্তিমতো একটা ভোট দিতে পারলেই আজকের সব কষ্ট ভুলে যাবো।”

একই অনুভূতির কথা জানালেন বরিশালগামী লাইলি আক্তার। তিনিও জীবনের প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন। মিরপুর থেকে সদরঘাট পৌঁছাতেই লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। তিনি বলেন, “এই আনন্দের সঙ্গে কোনো কষ্টের তুলনা হয় না। জীবনে প্রথম ভোট দেবো—এটাই বড় কথা।”

ভোটের টানে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, চাকরিজীবীরাও পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরছেন। ভোলাগামী রাজিব আহসান বলেন, আগের কয়েকটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেই এবার এমন গণযাত্রা। তার মতে, এই নির্বাচনকে মানুষ পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

সদরঘাটের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এই ভিড় ঈদের সময় ছাড়া সচরাচর দেখা যায় না। ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, কয়েক দিন ধরেই যাত্রী বাড়ছে, বেচাকেনাও বেড়েছে।

এদিকে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত লঞ্চের পাশাপাশি বিশেষ লঞ্চ চালু করা হয়েছে প্রায় সব রুটে। ভাড়া নিয়ন্ত্রণে টানানো হয়েছে ভাড়ার তালিকা, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

সব মিলিয়ে সদরঘাট যেন পরিণত হয়েছে ভোটের আগের এক আবেগঘন মিলনমেলায়—যেখানে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া, নিজের ভোট নিজে দেওয়ার অধিকার।