ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভিড় করছেন ইনকিলাব মঞ্চ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। বিকেলের দিকে হাসপাতাল এলাকা পরিণত হয় শোক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কেন্দ্রস্থলে।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা হাদির শারীরিক অবস্থার খবরে অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ দুই হাত তুলে দোয়া করছেন, আবার কেউ নির্বাক হয়ে হাসপাতালের দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখের পানি মুছছেন। সবার একটাই প্রার্থনা—
“সৃষ্টিকর্তা যেন ওসমান হাদিকে ফিরিয়ে দেন।”
🔹 হাসপাতালের প্রতিটি কোণজুড়ে উৎকণ্ঠা
সরেজমিনে দেখা গেছে—জরুরি বিভাগ, ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার, আইসিইউ করিডোর—সব জায়গায় একই দৃশ্য। ভিড়, কান্না আর গভীর অসহায়তার আবহ স্থানীয় পরিবেশকে ভারি করে তোলে।
ইনকিলাব মঞ্চ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও হাজারো সাধারণ মানুষ হাসপাতালের ভেতর-বাইরে ভিড় করছেন। আইসিইউ’র সামনে অপেক্ষমাণ হাদির রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা কারও মুখে কথা নেই—কেউ কাঁদছেন, কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন।
🔹 রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের সমাগম
শুধু তার সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতারাও হাসপাতালে এসে সমবেদনা জানাচ্ছেন।
ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারের সামনে কান্নাভেজা চোখে সহযোদ্ধার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে। দীর্ঘক্ষণ তাকে একই জায়গায় আবেগাপ্লুত অবস্থায় দাঁড়ানো দেখা যায়। পাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদ হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
🔹 “হাদি ভাইকে এভাবে থামানো যাবে না”—ঢাবি শিক্ষার্থী
ঢামেকের সামনে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন,
“হাদি ভাইয়ের ওপর হামলার মানে হচ্ছে জুলাই বিপ্লবীদের ভয় দেখানো। কিন্তু তিনি ইতোমধ্যে লাখো মানুষের মন জয় করেছেন। সব স্তরের মানুষ তাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসে। এভাবে তাকে থামানো যাবে না।”
🔹 প্রার্থনা একটাই—হাদির জীবন বাঁচুক
সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে থাকা মানুষদের চোখে-মুখে একটাই প্রত্যাশা—
আল্লাহ যেন হাদিকে সুস্থ করে ফিরিয়ে দেন।