শীতের শুরুতেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমে ছুটির দিনগুলোতে লাখো পর্যটকে মুখরিত সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট। ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় পুরো সাগরতীর জুড়ে যেন উৎসবের আমেজ।

দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সাগরের নোনাজলে পা ভিজিয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সমির শাহা জানান, শীতের সময়ে সমুদ্র শান্ত ও পানি অনেক স্বচ্ছ থাকে, তাই এই সময়ে গোসল করে শান্তি লাগে। রাজশাহী থেকে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, সুন্দর সময়ে একবার সমুদ্রে পা না ভেজালে জীবনে অপূর্ণতা থেকে যায়।

পর্যটকের আগমন বাড়ায় হোটেল-মোটেলের বুকিং বেড়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির হাসি এনে দিয়েছে। কলাতলী বীচ পয়েন্টে আচার ও ঝিনুক-শামুকের অলংকার বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, গত কয়েক দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে এবং আশা করছেন এই মৌসুমে ভালো বাণিজ্য হবে। হোটেল দি কক্স টুডে'র ব্যবস্থাপক আবু তালেব জানান, সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে এবং পর্যটন ব্যবসা চাঙা হবে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, মৌসুমের শুরুতে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে এবং কোনো অপরাধীর উৎপাত যাতে না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে এবং পর্যটকদের নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে সতর্ক করছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইএফ/